শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
Logo পদ্মা সেতু উদ্বোধন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জানাচ্ছি অজস্র শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা •••আলহাজ্ব আবু সায়েম শাহিন Logo আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে আপনার প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা•••কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি Logo বিশ্ববাসীকে আমরা দেখিয়ে দিলাম আমরাও পারি আমাদের আছে একজন শেখ হাসিনা •••বাচ্চু মিয়া Logo পদ্মা সেতু উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা •••শাহজালাল লুলু Logo আওয়ামীলীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বাঙালির প্রাণ, স্বাধীনতার প্রাণভোমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল্লাহ হক Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ প্রতিটি নেতাকর্মীকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা •••কায়ুউম খান Logo আধুনিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা- একই সূত্রে গাঁথা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বললেন ইঞ্জিনিয়ার শাহীন হাওলাদার Logo উন্নয়ন অর্জন ও গৌরবের ৭৩ বছর •••মোঃ সোহরাব হোসেন Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা নেতা-কর্মীদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালেন বাচ্চু মিয়া Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানালেন রাজিয়া সুলতানা ইতি Logo আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে রয়েছি থাকবো আজীবন— হাজী আরজু মিয়া বেনু Logo মিরপুর ৮৫ বন্ধুদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বোট ক্লাবে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা।

প্রশাসন / ১২২ বার পঠিত
সময়: মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার
১০ জানুয়ারি (১৯৭২) বিকেল ৪.২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার মতো করে নির্মিত ১০০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চে স্থাপিত মাইকের সামনে যখন ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন তিনি শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন; তার দু’চোখ গড়িয়ে অশ্রু পড়ছিল বারবার। কান্না ছিল সেদিনের একমাত্র কণ্ঠস্বর। তিনি কাঁদছিলেন। কাঁদছিল লাখো মানুষ। যুগে যুগে অনেক কেঁদেছে বাঙালি, অনেক কান্না বুকের রক্ত হয়ে ঝরেছে। কিন্তু সেদিনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জন্য অসীম মমতার আবাস যে মহামানবের বুকে, তাঁকে ফিরে পাবার আনন্দে উদ্বেল বাঙালি অঝোরে কেঁদেছে ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি। আর তিনি কেঁদেছিলেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রাণাধিক প্রিয় জনতার মাঝে আসতে পেরে।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ আবু মোহাম্মদ রামিম তার বক্তব্যে বলেছেন, এই সেই ঐতিহাসিক রমনা রেসকোর্স যেখান থেকে ৭ মার্চ (১৯৭১) বঙ্গবন্ধু মুক্তিসংগ্রাম-স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, যে ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মুক্তিপাগল মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আর এখানেই ১০ জানুয়ারি (১৯৭২) বঙ্গবন্ধু আবার মঞ্চে জনতার সামনে দাঁড়ালেন। ৭ মার্চ মানুষ যেমন ছুটে গিয়েছিল রেসকোর্সের দিকে, ১০ জানুয়ারিও ঢাকাবাসী রওয়ানা হয় রেসকোর্সের দিকে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সময় জনগণের মধ্যে ছিল উত্তেজনা। আর ১০ জানুয়ারি সেই একই উত্তেজনা ছিল কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আনন্দ আর আবেগ। কারণ জাতির পিতা ফিরে এসেছেন।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের মহিলা ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ডাঃ রোকসানা আক্তার বলেছেন ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ৩৫ মিনিটব্যাপী প্রদত্ত বক্তৃতায় বাংলার প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলার একজন লোকও বেঁচে থাকতে এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেবে না। বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নেই”।
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নয় মাসেরও অধিক সময় পরে স্বদেশে ফিরে এসে দেশবাসীর সামনে বক্তৃতা করতে গিয়ে জনতার প্রিয় নেতার চোখে অশ্রু নেমে আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে, যাঁরা বর্বর বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, “আজ আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার প্রতি জানাই সালাম। তোমরা আমার সালাম নাও। তিনি বলেন, “পশ্চিম পাকিস্তানে আমি ফাঁসিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম বাংলাদেশ স্বাধীন হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে। খেয়ে-পেয়ে সুখে থাকবে এটাই আমার সাধনা।”
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের এর সভাপতি ডাঃ সনজিৎ চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেন, কবিগুরুর সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি…।’ কবিতাংশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কবিগুরুর আক্ষেপকে আমরা মোচন করেছি। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা প্রাণ দিতে জানে। এমন কাজ তারা এবার করেছে যার নজির ইতিহাসে নেই।”

তিনি আরো বলেন, “গত সাতই মার্চ এই রেসকোর্সে বলেছিলাম দুর্গ গড়ে তোল। আজ আবার বলছি আপনারা সবাই একতা বজায় রাখুন। আমি বলেছিলাম, ‘বাংলাদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ আজ বাংলাদেশ মুক্ত ও স্বাধীন। যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায় তাহলে সে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রাণ দেবে।” বঙ্গবন্ধু আরো ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্মীয় ভিত্তিতে হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।”

বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বি এম এ) এর সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী গত দশ মাসে বাংলাদেশকে বিরান করে দিয়েছে। উল্লেখ করে শেখ মুজিব বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের ভাই হিসেবে বলছি—যদি দেশবাসী খাবার না পায়, বস্ত্র না পায়, যুবকরা চাকুরী বা কাজ না পায় তাহলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে পূর্ণ হবে না। তোমরা, আমার ভাইয়েরা, গেরিলা হয়েছিলে দেশমাতার মুক্তির জন্য। তোমরা রক্ত দিয়েছো। তোমাদের রক্ত বৃথা যাবে না।”
বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “নিজেরা সবাই রাস্তা তৈরি করতে শুরু করুন, যার যার কাজ করে যান। একজনও ঘুষ খেয়ো না। মনে রেখ আমি সহ্য করবো না।” তিনি বলেছেন, “সকলে জেনে রাখুন বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ। ইন্দোনেশিয়া প্রথম ও ভারত তৃতীয়।”

বঙ্গবন্ধু বলেন যে, বর্বর পাক হানাদার বাহিনী অন্ততপক্ষে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশ হানাদার বাহিনী যখন স্টিম রোলার চালিয়ে যায়, তখন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। ওরা তাঁকে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল। ওদের কাছে তখন তিনি একটি প্রার্থনা করেছিলেন যে, তাঁর মৃতদেহ যেন সোনার বাংলায় পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল। কবর খোঁড়া হয়েছিল। জীবন দেবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। বলেছিলাম আমি মানুষ, আমি বাঙালি, আমি মুসলমান। মানুষ একবার মরে, দুবার নয়। হাসতে হাসতে মরবো তবু ওদের কাছে ক্ষমা চাইবো না। মরার আগে বলে যাবো আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা, জয় বাংলা বলবো, বাংলার মাটি আমার মা। আমি মাথা নত করবো না।”

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল এর নির্বাহী সদস্য ডাঃ মোঃ শামীম আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় দেশবাসীকে বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য ভাষাভাষী লোকদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেশবাসীকে অনু্রোধ করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও সংবাদ

দলিল লেখক এ.বি,এম. আজিজুল হক

ফেসবুকে আমরা

আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী

.

সুরক্ষা অনলাই পোটার্ল

ইতিহাসের এই দিনে

Apps Download

Theme Customized By IT DOMAIN HOST